বিদেশিদেরও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন-সারথি আদ্-দ্বীন!

ঢাকা: হাদিয়া জান (২৪) ভারতের কাশ্মীর অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। এখানে এসে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্য থেকে বেছে নিয়েছেন ঢাকার আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে।

হাদিয়া জানের মতে এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্য যে কোনো অঞ্চল বা দেশের চেয়ে খুবই কম খরচে আদ্-দ্বীনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে হাদিয়ার কণ্ঠে প্রশংসাই ঝরেছে: এখানে পড়া-লেখার পরিবেশ ভালো, লোকেশন ভালো আর এয়ারপোর্টের কাছে। খরচ অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক কম। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, হোস্টেলে সব সুযোগ সুবিধা ভালো। এজন্য আমি আদ্‌ দ্বীনে ভর্তি হয়েছি। তাছাড়া এখানে যেসকল শিক্ষক রয়েছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান।

হাদিয়া জান বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের জম্মু-কাশ্মীরে মাত্র ৪টি মেডিকেল কলেজ আছে।সে তুলনায় শিক্ষার্থী অনেক বেশি।এজন্য আমাদের ওখানের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে দেশের বাইরে যেতে হয় ডাক্তারি পড়তে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজে অনেক কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের এমবিবিএস ডিগ্রি নেয়া যায়। প্রথম ব্যাচে কাশ্মীর থেকে আমরা ৪জন এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। সংখ্যাটা  এখন বাড়ছেই। এবছরও শুধু কাশ্মীর থেকে ৪৮ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে

শনিবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মগবাজারে সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমবিবিএস কোর্সের পাঠদান হচ্ছে। তুলনামূলক অল্প খরচে খ্যাতিমান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এখানে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ছেন চার শতাধিক ছাত্রী।

কলেজে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও আধুনিক ল্যাব ছাড়াও রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ ক্লাসরুম। প্রায় ৫ হাজার পাঠ্যবইয়ের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে ক্যাম্পাসে রয়েছে মনোরম একটি লাইব্রেরি। প্রত্যেক ব্যাচের মেনটরশিপ ও কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ড্রেসকোড। স্বল্প ব্যয় আর মনোরম পরিবেশের কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়তে আসছেন। বর্তমানে এখানে ভারত, নেপালসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শতাধিক ছাত্রী এমবিবিএস অধ্যয়নরত।

২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত ৫ বছরব্যাপী এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষাদান ও ডিগ্রি দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সম্মিলিত নির্ধারিত পরীক্ষার মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

কাশ্মীর থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী জারকা শাবির।  বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমাদেরকে যে হোস্টেলে রাখা হয় সেখানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। আমাদের পারসোনাল সিকউরিটি দেয়া হয়।তাছাড়া আমাদের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়। পড়ালেখার খরচও অনেক কম। আমাদের পুরো কোর্সের জন্য মাত্র ৩৫ হাজার ডলার দিতে হয়। যা অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক কম।

জানা গেছে, অন্যান্য মেডিকেল কলেজে ৮টা থেকে আড়াইটা রুটিন মতো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এখানে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছাত্রীরা ক্লাস করার সুযোগ পান। এছাড়া শুক্রবার এবং সরকারি ছুটি ছাড়া অন্য আর কোনো ছুটি দেয়া হয় না। প্রতিদিন রাত ৯টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। ফলে ছাত্রীরা ক্যাম্পাস থেকেই পড়াশোনা শেষ করে বাসায় যেতে পারেন।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আফিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে মগবাজার ক্যাম্পাসে ১৪৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। যারা প্রত্যেকের বিভাগে খুবই কোয়ালিফাইড। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক রোগী আছে। ফলে ছাত্রীদের প্রাকটিক্যাল পড়ালেখায় কোনো সমস্যা হয় না।

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আমরা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করে থাকি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যারা কাশ্মীর থেকে এসেছেন তারা খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় অভ্যস্থ। এজন্য তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আমরা সেভাবেই করে থাকি। এছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের ইয়ারভিত্তিক ড্রেসকোড দিয়েছি, যাতে করে দেখেই একজন ছাত্রীকে শনাক্ত করা যায় যে সে কোন ইয়ারের। এভাবে তাদের নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়।


Share this news to social network :
Leave a reply