আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত – ডেইলি সান

বর্ণাঢ্য আয়োজনে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কর্মী সমাবেশ।

আজ রবিবার সকালে শহরতলীর পুলেরহাটে অবস্থিত আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল করিম।

শহর থেকে দূরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে স্থাপিত আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজের হল রুমে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে ছিল মুখরিত।

এনজিওদের অর্থযোগানদাতা সংস্থাটির প্রধান আব্দুল করিম প্রধান অথিতির বক্তৃতায় যা বলেন, ‘আদ-দ্বীনের কর্ম-তৎপরতায় আমি মুগ্ধ-অভিভুত। দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে আদ-দ্বীন যা করছে তা শুধু প্রশংসা করেই শেষ করা যাবেনা বরং দেশের অন্যান্য এনজিও ও মেডিকেল কলেজগুলোর উচিত তা অনুসরণ করা। স্বচ্ছতা, নিয়মানুবর্তিতা ও পরিচ্ছন্নতায় আদ-দ্বীন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অবশ্যই অনুসরনীয়-অনুকরণীয়।’

তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে ডিসিপ্লিন বজায় রেখেও যে একটি কলেজ চালানো যায়, আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। দেশে অনেক মেডিকেল কলেজ আছে, আমি তাদের বলবো, আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজকে অনুকরণ-অনুসরণ করতে।

আদ-দ্বীন পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের কথা উল্লেক করে প্রধান অতিথি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে এই সংস্থাটি গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখছে।

বর্তমান সরকারের নানা যুগান্তকারি পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশ সাফল্যজনক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা উন্নত দেশ হিসাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে চললে ২০৪১ সালে আমরা উন্নতদেশে সামিল হতে পারবো। তবে এ কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়, যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে এ ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে হবে। দরিদ্র্য দূরিকরণে আদ-দ্বীন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে। আমি আশরা রাখবো তারা এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তাই স্বাস্থ্য, শিক্ষার পাশাপাশি আদ-দ্বীনকে এখন এই খাতেও অবদান রাখতে হবে। তিনি আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের আরো সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বরেণ্য আইনজ্ঞ আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানব সেবার চেয়ে বড় সেবা আর নেই। মানুষের সেবা করা মানেই সৃষ্টিকর্তার সেবা করা। সেই কাজটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে করে আসছে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর মানুষের অভাব দুরিকরণে এ সংস্থাটি গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। সততা আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে যে বহু দূর যাওয়া যায়, আদ-দ্বীন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা আদ-দ্বীন এখন বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য দুরিকরণে কাজ করা সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, মানবসেবায় গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখছে আদ-দ্বীন। আর এসব সম্ভব হয়েছে যার দক্ষ পরিচলানায় তিনি হলেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন। কর্মপ্রিয় মহিউদ্দিন প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা শক্তি থাকলে যাওয়া যায় বহুদূর। ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক সমাপনি বক্তব্যে আদ-দ্বীন যাতে তার সাফল্যময় কর্মকান্ড নিয়ে আরো বহুদূর যেতে পাওে সে জন্য সকলের সহায়তা কামনা করেন।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে আদ-দ্বীন পরিচালিত বিভিন্ন খাতের বিস্তারিত বর্ণনাও তুলে ধরা হয়। আদ-দ্বীন প্রতিষ্ঠা থেকে এ র্যন্ত পথ পরিক্রমার কষ্ট আর সাফল্য তুলে ধরেন এ সংস্থার কর্ণধার নির্বাহি পরিচালক ড. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি আজকের এ অবস্থানে আসতে যারা ভুমিকা রেখেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের উপ মহাব্যবস্থাক (অর্থ) গোলাম তৌহিদ।

এ ছাড়াও অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি ফখরে আলম, আর আর এফ এর নির্বাহি পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সেন্টারের সভাপতি ডা. মুহম্মদ আব্দুস সবুর। আদ-দ্বীনের স্বাস্থ্য ও ঋণদান কর্মসূচী তুলে ধরেন কমিউনিটি হেলথ ও মাইক্রোফাইন্যান্স এর পরিচালক মোঃ ফজলুল হক, এ প্রকল্পের একজন উপকার ভোগী অলোকা রাণী পাল ও গেদলাপী বেগম, শরিয়াহ ভিত্তিক মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রম বর্ণনা করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তবীদ মুফতি ইব্রাহিম। চক্ষুসেবা কার্যক্রম উপস্থাপনা করেন এ প্রকল্পের সমন্বয়কারি রবিউল হক।

এ ছাড়াও নিজেদের কর্মততপরতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ঢাকা’র অধ্যক্ষ ডা. আফিকুর রহমান, ফাতেমা নার্সিং ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ এ্যালিজাবেথ অঞ্জলি রোজারিও, আদ-দ্বীন উইমেন্স ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজির অধ্যক্ষ ডা. মশিউর রহমান ও আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঢাকার পরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন।

কর্মীসমাবেশ উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গনে বসানো হয় মেলা। এতে আদ-দ্বীন পরিচালিত বিভিন্ন কর্মততরতা এবং উপকার ভোগীদের বিভিন্ন সাফল্য ও সামগ্রি প্রদর্শন প্রদর্শন করা হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার শেষে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

News Link: http://bangla.daily-sun.com/post/29407


Share this news to social network :
Leave a reply